শুক্র. ডিসে. ১৪th, ২০১৮

এমপি দারার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন প্রতারিত যুবকরা:উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: চাকরি দেয়ার নামে বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিরুদ্ধে। কিন্তু চাকরি না পেয়ে ওই টাকা ফেরতের দাবিতে রাজপথে অান্দোলনে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত যুবকরা।

অভিযোগ রয়েছে, ওই এমপিকে চাকরি দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এমপি তাদের চাকরি দেননি, টাকাও ফেরত দেননি।

ফলে বাধ্য হয়ে কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই ঘণ্টা রাস্তায় অবস্থান করলেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এমপি দারা টাকা নিয়েছেন কিন্তু এমপি তাদের চাকরি দেননি, এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৩০ নভেম্বর ) সকাল ১০টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক যুবক রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের ঝলমলিয়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ দারা এমপির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় তারা এমপির বিরুদ্ধে নানা স্লোগানও দেন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল প্রামাণিকসহ স্থানীয় নেতারা গিয়ে তাদের অনুরোধ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন।

রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল প্রামাণিক এ সময় চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ২০০৯ সালে তিনি নিজেই সহকারী শিক্ষক পদে তার ভাইয়ের চাকরির জন্য এমপিকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। এমপি তার ভাইকে চাকরি দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। তিনি নিজেই ভুক্তভোগী। নির্বাচনের পর তারা আবদুল ওয়াদুদ দারাকে যেখানে পাবেন, সেখানেই সবার টাকা আদায় করবেন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ দারা। দশম সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন।

এই ১০ বছরে এমপি দারা দুই উপজেলার বহু যুবকের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি দারা দলের মনোনয়ন পাননি।

এমপির অপেক্ষায় চাকরিপ্রার্থীদের রাস্তায় অবস্থান নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল প্রামাণিক বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে শুক্রবার এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারার এলাকায় আসার খবর প্রচার করেন। তাই চাকরিপ্রার্থীরা তাদের টাকা আদায়ে এমপিকে আটকানোর জন্য সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন।

আবুল ফজল বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিলে আমাকে থানা থেকে ফোন করা হয়। বলা হয়, ‘সামনে নির্বাচন, এতে আপনাদের দলের ক্ষতি হবে। বিক্ষুব্ধদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন।’

তিনি বলেন, তাই আমরা গিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেই। তাদের আশ্বাস দিয়েছি, ৩০ ডিসেম্বরের পর আবদুল ওয়াদুদ দারাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হবে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিনুল ইসলাম বলেন, টাকা দিয়ে চাকরি পাননি এমন কিছু লোক রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। বিকালে নিজ এলাকায় এমপি দারা ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন অনুসরণ করুন:-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।